জয়ের ইতিহাস ফিরিয়ে আনবে তো অধিনায়ক সাকিব!

টেস্টে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের প্রিয় প্রতিপক্ষ কোন দল? নিশ্চিতভাবে উত্তর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিয়ারে এর আগে দুই ধাপে ১৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকিব। যার মধ্যে পেয়েছেন তিন জয়। আর তিনটিই এসেছে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষেই।

এ ছাড়াও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার আচমকা ইনজুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে পাওয়া প্রথম জয়েও অলিখিত অধিনায়ক ছিলেন সে সময়ের তরুণ তুর্কি সাকিব। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে টেস্টে সাকিব অধিনায়ক হয়ে আসলেই প্রথম ম্যাচটি থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আর সেই ম্যাচ জয়ে রাঙিয়ে শুরু করেন এই ক্রিকেটার।

Untitled-1

ছবি: ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অধিনায়কত্বের অভিষেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়ছেন সাকিব।

২০০৯ সালে এবং ২০১৮ সালের ইতিহাস তাই বলে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে অধিনায়কত্বের অভিষেকে জয় পেয়েছিলেন সাকিব। এরপর ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের মাটিতে দ্বিতীয় ধাপের শুরুতেও একই ঘটনা ঘটেছিল সাকিবের সঙ্গে। আজ (১৬ জুন) রাতে শুরু হওয়া সাকিবের তৃতীয় অধিনায়কত্বের ধাপেও উইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগা টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। অতীতের সেই জয়ের ইতিহাস কী এই ম্যাচেও ফিরিয়ে আনবে অধিনায়ক সাকিব?

সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স অবশ্য সাকিবের বিপক্ষে কথা বলছে। সর্বশেষ জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে টেস্টে জয় দেখেছিল বাংলাদেশ। এরপর থেকে সাদা পোশাকে দিশেহারা হয়ে আছে টাইগার শিবির। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে লজ্জার হারের পর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও সিরিজ বাঁচাতে পারেনি দলটি।

তবে সাকিব আশা করছেন উইন্ডিজদের বিপক্ষে তাদের মাটিতে ভালো ক্রিকেট এবং জয় উপহার দিয়ে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে ভুল প্রমাণিত করবে তার দল। এ ছাড়াও টেস্টে দারুণ শুরু পেলে পুরো সিরিজ জুড়েই অনুপ্রেরণা পাবে দল এমনটাই বিশ্বাস টাইগারদের টেস্ট অধিনায়কের।

অ্যান্টিগা টেস্টের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেন, আমরা সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে ভালো খেলছি না। তবে আমি ভাবছি এখানে ভালো খেলে সবাইকে ভুল প্রমাণ করা সম্ভব। এখানে টেস্টে ভালো করলে পুরো সিরিজের জন্যও আমরা মোটিভেটেড হতে পারব।

ব্যাট-বল হাতে অধিনায়ক সাকিব যদি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, তবে যেকোনো কিছুই যে সম্ভব এর আগে এমন উদাহরণ দেখা গিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে ফিরে দুটি সিরিজ জয়েই তাই সিরিজ সেরা হিসেবে দেখা গিয়েছিল সাকিবকেই।

ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সাকিবের পারফরম্যান্সও আশা জাগানিয়া। দলটির বিপক্ষে ১১ ম্যাচের ১৯ ইনিংসে ৮১৩ রানের পাশাপাশি ৪৬ উইকেট পেয়েছেন সাকিব। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ৩৩ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

অধিনায়ক হিসেবেও পরিসংখ্যান কথা বলে সাকিবের হয়েই। ১৪ ম্যাচের ২৭ ইনিংসে ৯১৮ রানের পাশাপাশি ৬১ উইকেট আছে সাকিবের নামের পাশে।

যদিও এই সিরিজে সাকিব নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে একদমই ভাবছেন না। সিনিয়রদের বিষয়েও খুব বেশি ভাবনা এই তারকার। বরং তাকিয়ে আছেন দলের তরুণ তারকাদের দিকে। সাকিব আশা করছেন দলের তরুণ ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়, অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ, পেসার রেজাউর রাজা কিংবা নুরুল হাসান সোহানরা নিজেদের প্রমাণ করবেন এই সিরিজে এবং দলকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দিয়ে আনন্দে ভাসাবেন।

সাকিবের ভাষ্যে, ‘আমি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত নই। বরং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবছি। আমাদের ওপেনার জয় দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডে ভালো করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে আমি আশা করি, সে যথেষ্ট যোগ্য আর সে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরও অনেক কিছু দেবে। রাজার দিকে আমরা নজর রাখতে পারি। এ ছাড়া মেহেদী মিরাজ দলে ব্যাক করেছে। সোহানও নিজেকে প্রমাণের চেষ্টায় আছে। আশা করি, তারা বাংলাদেশকে জয় এনে দেবে।’

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন মুস্তাফিজুর রহমান। এই পেসার টেস্ট খেলবেন কি খেলবেন না, এ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সাকিব অবশ্য জানালেন, এই সিরিজের দুই টেস্টেই মুস্তাফিজকে দেখা যেতে পারে। তবে মুস্তাফিজের সমর্থনে সাকিব জানিয়েছেন, এই পেসার যদি টেস্ট খেলতে না চায়, তবে সেই সম্মান করা উচিত সকলের।

সাকিব মুস্তাফিজকে নিয়ে বলেন, ‘দেখুন, একেক জনের একেক চাওয়া থাকতেই পারে। এখানে কাউকে উদ্বুদ্ধ করার কিছু নেই। এখন মুস্তাফিজ যদি ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি খেলতে চায়, তাহলে আমাদের সে সিদ্ধান্ত সম্মান করা উচিত। আমি জানি না লম্বা সময়ে সে কী চায়! যেহেতু এই সিরিজে আছে আমি শিউর সে এই দুই ম্যাচ খেলার জন্য মোটিভেটেড।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.